কেন ঘানী ভাঙ্গা সরিষার তেল খাবেন।

  • 23 April, 2020

আমরা কেন আমাদের ঘানী ভাঙ্গা তেল আপনাদের সাজেস্ট করি।
আসেন ট্রান্স ফ্যাট নিয়ে একটু পড়াশুনা করি।

==================

এবার আসি সবচে বিষাক্ত ফ্যাট এ। যেটা ন্যাচারাল না। যেটা সমগ্র পৃথিবীতে বুকে ব্লকের অন্যতম প্রধান কারণ। সেটা হল ট্রান্স ফ্যাট।
দুটো স্যাচুরেটেড ফ্যাট অনু যুক্ত হয়ে এই ট্রান্স ফ্যাট হয়। মানে এটা ডাবল স্যাচুরেটেড ফ্যাট। এটা ন্যাচারালী কোন তেলেই সেভাবে থাকেনা। ট্রেস এমাউন্ট থাকে, যেটুকু মানুষের ক্ষতি করেনা।

কিন্তু এই ফ্যাট ডাইরেক্ট বুকের ভিতরে গিয়ে জমে ব্লক হয়। সামান্য একটু খেলেই ব্লক। এটা একই সাথে ‘খারাপ কোলেস্টেরল’কে বৃদ্ধি করে, আবার ভাল কোলেস্টেরলকে কমিয়ে দেয়। একই সাথে এই ট্রান্সফ্যাট ইনফ্ল্যামেটরী। মানে যেখানে জমে , সেই জায়গাটা ফুলে যায়।

মানে সামান্য একটু ট্রান্সফ্যাট মনে করেন বুকের আর্টারীতে গিয়ে জমলো। মনে করেন ১০% ব্লক হবার কথা। কিন্তু এটা ফূলে গিয়ে ( ভলিউম এক্সপ্যানশন ) ৩০% হয়ে যাবে আরকি।

তার মানে নরমালী ৬০% কে সে ফুলিয়ে ১০০% ব্লক করে আপনাকে সিঙ্গাপুরে পাঠাই দিবে।

তার মানে সবচে ঝুঁকিপূর্ণ ফ্যাট , হল ট্রান্সফ্যাট। অন্যগুলো কম ঝুঁকিপূর্ণ। ওকে?

আগে সাদা চিনিকে বিষ বলছিলাম। হা , তা বিষ, কিন্তু যখন বেশী হয়, ২-৩ চামচ ওকে, ডাব্লিউ এইচ ও বলছে ৬ চামচ পর্যন্ত ওকে। সাদা চিনি হল স্বল্প মাত্রার বিষ : বিষ এ ধুতুরা।

সেই তুলনায় ট্রান্স ফ্যাট হল : বিষ এ সায়ানাইড।
জাগাত খাইবেন, জাগাত বুকে ব্লক।

=============

তো, USDA/FDA এর লিমিট অনুযায়ী ট্রান্সফ্যাট এর দৈনিক লিমিট হল মাত্র ২.০ গ্রাম। মানে এর বেশী খেলেই বুকে ব্লক হবার সম্ভাবনা তৈরী হবে।

=============

কিন্তু আমরা কতটুকু খাচ্ছি। আর কতটুকু গরু থেকে খাচ্ছি? কতটুকু সয়াবীন থেকে খাচ্ছি। আর এই ট্রান্সফ্যাট কেন আমাদের ফুড সাইকেল এ আসলো? এটা তো সায়ানাইড। উচ্চ মাত্রার বিষ। এমনটা তো হবার কথা না, তাইনা?

=============

ঘটনা হল এই: গত শতাব্দীতে সয়াবীন সহ সকল ভোজ্য তেল ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজড প্রডাকশনে যায়। তো ইন্ডাস্ট্রি কিন্তু তেল তৈরী করে মেশিনে , ঘানি ভাঙ্গা তেলের মতন না ওইটা।

ইন্ডাস্ট্রি তেলকে সুন্দর, ঘন এবং বহুদিন স্বাদ গন্ধ অপরিবর্তীত রাখার মানসে এর সাথে হাইড্রোজেন গ্যাস মিশায়।

‘যেকোন তেল + ক্যাটালিস্ট + বায়বীয় হাইড্রোজেন’ = ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজড ভোজ্য সয়াবীন/ক্যানোলা/ সানফ্লাওয়ার তেল, যেটা আমরা খাই এখন।

তা সয়াবীন হোক বা ক্যানোলাই হোক বা সানফ্লাওয়ারই হোক। তারা কিন্তু হাইড্রোজেন মিশাইয়া এটাকে বিষাক্ত করে। কারণ
প্রসেস টায় গেলে ব্যাপক লাভ হয়, মাস প্রডাকশনে যাওয়া যায়, মানুষ কিনেও। ঘানী ভাঙ্গা তেল মাত্রাতিরিক্ত তরল ( সান্দ্রতা কম ) হয়, বেশী দিন থাকেনা, তাই ইন্ডাস্ট্রী সেটা পছন্দ করেনা। ইন্ডাস্ট্রী বাহির থেকে এক্সট্রা হাইড্রোজেন মিশায়। মনে করেন, ওই হাইড্রোজেন হল বায়বীয় ফরমেটের ফরমালীন আরকি।

ইন্ডাস্ট্রির উদ্দেশ্য, হয়তো খারাপ না, একটু বেশী টাকা কামানো। কিন্তু …..

কিন্তু যখন নরমাল আন স্যাচুরেটেড তেলের সাথে আপনি হাইড্রোজেন মিশাবেন, তখন ওই তেলের একটা বড় অংশ ট্রান্স ফ্যাট এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট হয়ে যায়। ওই হাইড্রোজেন পরমানু , কার্বন লিংকের ফাকা জায়গায় বসে গিয়ে।

স্যাচুরেটেড ফ্যাট একটু খারাপ, কিন্তু ট্রান্সফ্যাট তো পুরা সায়ানাইড, রাইট?

প্রতি দশ গ্রাম তেলে ৪-৫-৬ গ্রামই ট্রান্সফ্যাট হয়ে যেতে পারে, ডিপেন্ড করে, আপনি কি পরিমান হাইড্রোজেন গ্যাস মিশালেন, তার উপর।

ট্রান্সফ্যাট আরও এক ভাবে হয়, সেটা হল বাহিরে দোকানে যখন একই তেলে দিনের পর দিন সিঙ্গারা-সামুচা সহ সব কিছু ভাজা হয়। যেটাকে আমরা পোড়া তেল বলি। তেল বেশী পুড়লে, বাতাসের হাইড্রোজেন এর সাথে বিক্রিয়া করে তা ট্রান্সফ্যাট হয়ে যায়। কাজেই বাহিরের ভাজা-পোড়া খাবার যাবেনা। না পারলে, বাসায় বানিয়ে খান।

credit  M. Rezaul Karim Bhuyan

You can read full article here.

https://web.facebook.com/reza0104/posts/10219040736826812 https://web.facebook.com/vaivaitradersjhaudangabazaar/videos/989948831341448/